Tuesday, 16 December 2014

লিখতে বসার আগে অনেক ভাবলাম নিজেকে নিয়ে, কিন্তু কিছুই পাই না। যতটুকু নিজেকে বুঝি পুরাটাই পার্শ্ববর্তী মানুষগুলোর অবদান। একনিষ্ঠ লেখক আমি নই, এই কারনেই হয়তো লেখাও হবে না। পরে হাসার জন্য লিখলাম, নিজের লেখায় কিছুদিন পরে পড়তে অনেক বেশি মজা লাগবে। :)
নিজের সম্পর্ক কি লিখবো এখন ঠিক করতে পারছিনা, তাই অন্যদের সম্পর্কে লিখি,

                                      আমার বাবা
                                   (গোলাম রাহমান)
মানুষটিকে যতদুর চিনি খুব ছটফটে মানুষ, তরুন বয়সে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ ছিলেন, সেই কারনেই শুরুতে একজন নাবিক ছিলেন, দীর্ঘ ৪-৬ বছরের নাবিক জীবন শেষকরেন ৯২ এর ঝড়ে। এখন ৪৯ বছর বয়সে তার অ্যাডভেঞ্চার ধুয়ে মুছে গেছে সম্পদ আর বয়সের ভারে। কথা একটু বেশি বলেন, কিন্তু টপিক এর বাইরে চলে জান খুব তাড়াতাড়ি, রাগ করেন তবে স্বল্প সময়ের জন্য তাই রাগটাও মারাত্তক হয়, একবার ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মেরে আমার চোখের বা পাশে ফুলিয়ে দিয়েছিলেন, ৫ মিনিট পরে এসে সেকি আদর, একমাস আমি শুধু চিকেন বার্গার খাইছি, আমার এই অতিরিক্ত ওজনের জন্য ওইসব বার্গার দায়ী।  সুখী, সুন্দর, গাছারা ভাবে চলেন, কারো সাথেও নেয়, পিছনেও নেয়। সুস্থ এবং সবল একজন মানুষ, সরকারি চাকরি করার কারনে একটা ভুরি বানিয়ে ফেলেছেন। সব থেকে পছন্দের সময় রাতের শেষ সিগারেট আর সাথে পুরাতন বাংলা গান। মোবাইলে কথা বলা তার রোগের মতো, দিনে প্রায় ২০-১৫০ মিনিট কারো না কারো সাথে কথা বলে কাটান।

                                                আমার মা
                                         (শাহানাজ বিলকিস)
                                                                     
পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল মানুষ। কেও যদি বলে সে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল মানুষের সাথে দেখা করতে চায় আমি বলব আমার মার সাথে দেখা করতে। সাধারন মানুষ, অতিসাধারণ গৃহিণী, বিয়ের পরে শহরে চলে আসেন, শহরে প্রায় ২৫ বছর থাকার পরও তার মদ্ধে এখনো  শহরের কৃত্রিমতা ঢুকে নাই। এখন সে অকৃত্রিম। পছন্দ করেন ঘরের সব কিছু গুছিয়ে রাখতে, এই একটি কারনে আম্মুকে আমার অপছন্দ, আমি অগোছালো টাইপ এর মানুষ, কিছু গুছিয়ে রাখলে আমি আর খুজে পাই না, তবে মনে করিয়ে দেবার কাজটাও আম্মুই করেন। ছোট বেলা থেকেই কখন আমাদের (আমি আর আমার ভাই) বলেন নি কারো সাথে খারাপ কিছু করতে, আমার এখন মনে আছে, আমি একবার এক ছেলের মাথা মেরে ফাটিয়ে দিয়েছিলাম, আম্মু আমাকে কি মাইর, দৌড়াইতে দৌড়াইতে মাইর খাইসি। এখনো আমার মদ্ধে যতটুকু ভাল দিক বিদ্যমান (আমি একজন খারাপ মানুষ) সব কিছুই আম্মুর অবদান। শিক্ষকের মেয়ে হবার কারনেই তার মদ্ধে নৈতিকতা অনেক বেশি। তার সপ্ন খুউব ছোট্ট, একটা বড়বাড়ি করবে দুই তালা এবং বিকেলে  বাড়ির ছাদে বসে মানুষ দেখবে। জানিনা পারবো নাকি, তবে আমি চেষ্টায় আছি। আমার নিজের বাড়ি ঘর ভাল লাগে না, শেষ বয়সে মনে হয় বুদ্ধ মন্দিরে কাটাবো। ও!!! রান্না, তার রান্নার হাত মারাত্তক, বিশেষ করে সবজি রান্না। আম্মু আমার এই লেখা দেখলে কাল থেকে নিয়মিত সবজি খেতে হবে।  তার অপারেশন এর পর একটু মোটা হয়ে গেছেন, আগে অনেক শুকনা মানুষ ছিলেন। এখন পর্যন্ত প্রায় সব কিছুই আম্মুর সাথে বলি, শুধু শেষ প্রেমিকার বিষয়ে কিছুই বলি নি, আমি কোন কিছু করলে সবার আগে আম্মু ঠিক পায়। তার আলমারি ভর্তি শারি, গয়না কিন্তু সে পরবে   ঢোলা টাইপ এর কামিজ, কিনেই শান্তি।

                                   আমার ভাইঃ 
                          (আলিফ উর রাহমান)
ডাক নাম সিফাত একুশ শতকের কিশোর। ফেইসবুক আর সামাজিকতার নামে নিজ থেকে বিচ্ছিন্ন।
তার দশ নাই। বর্তমানের প্রায় সব কিশোর এমন কি তরুণদের এই সামাজিক সমস্যা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমার খুব একটা পছন্দ না এখানে আমার অনুভুতিগুলো পণ্যের মত। যাই হোক সিফাত!!!  গোঁয়ার স্বভাবের, প্রত্যেকদিন সকালে আম্মুর সাথে ঝগড়া করবে, হাহাহা। আমার মজাই লাগে ব্যাপারটা। আম্মু ইচ্ছা করে ওকে ১০ টাকা কম দেয় আর ওর কি পরিমাণ রাগ। হয়ত এই রাগটাই আম্মুর ভালো লাগে। সিফাতের  ভালো গুন হচ্ছে সিফাত সৎ, সরাসরি কথা বলে, নীতিগত ভাবে উচ্চ পর্যায়। এখন দেখার বিষয় এই নীতিটা কতদিন থাকে। সিফাতের সাথে আমার একটা দূরত্ব কাজ করে। মনে হয় বড় ভাই হিসেবে আমি ভালো না। আমি চেষ্টা করি খুব কাছে থাকার, হয়তোবা তার মত হয় না। শুধু তার জন্য আমার কামনা "যাই করিস, কখনো নিজেকে হারাবি না, নিজের কাছে নিজে ছোট হয়ে যাওয়া মানে একবার মৃত্যু বরন করে নেয়া"।।  

No comments:

Post a Comment